আজ শুরুতে ছিলেন ‘নিখুঁত’ মুস্তাফিজ শেষে আবার উধাও

0
17

আরেকটি শেষ ওভারের লড়াইয়ে, আরো নির্দিষ্ট করে বললে শেষ বলের লড়াইয়ে টানা তিন ম্যাচে হার দেখতে হল মুস্তাফিজের মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে। নিজের প্রথম দুই ওভারে গতিতে চমক আর নিখুঁত লেংথের পসরা সাজিয়ে দিল্লির ব্যাটসম্যানদের কাঁপিয়ে দেন। কিন্তু ১৭তম ওভার শর্ট থার্ডম্যানে দুটি ক্যাচ ফেলে শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে মুস্তাফিজ নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। জ্যাসন রয় তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ১১ রান নিয়ে দিল্লিকে সাত উইকেটের জয় এনে দেন।

১৯৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার রয় ৫৩ বলে ছয়টি চার, ছয়টি ছয়ে ৯১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করেন। তিন নম্বরে তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়ে যান ২৫ বলে ৪৭ করা রিশভ পান্ট।

মুস্তাফিজের চার ওভার
মোস্তাফিজুর রহমান এদিন শুরু থেকে নিজের সহজাত গতির থেকে একটু জোরে বল করতে থাকেন। কাটার তো ছিলই, শুরুর স্পেলে লেংথেও দারুণ দক্ষতার পরিচয় দেন এই পেসার। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে ২৫ রানে এক উইকেট নেন।

চতুর্থ ওভারে প্রথম বলে আসেন তিনি। দিল্লির রান তখন কোনো উইকেট না হারিয়ে ২৫। প্রথম বল খেলেন ডানহাতি জ্যাসন রয়। ফুল লেংথের বল অফসাইডে পুশ করেন। যায় মিডঅফে। ফিল্ডার ছিল। রান হয়নি। দ্বিতীয় বল অফসাইডের বাইরে ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি। ডিপ কাভারে পুশ করে এক নেন রয়। তৃতীয় বল খেলেন গম্ভীর। ডট। পরের বল অফস্ট্যাম্পে। স্কয়ার ড্রাইভ করেন গম্ভীর। কাভারে যায় বল। এক রান নিতে পারেন। পঞ্চম বল কাটার। রয় ভড়কে যান। ডিফেন্স করতে গিয়ে আকাশে উঠিয়ে দেন। বল পড়ে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের আম্পায়ারের কাছে। ফিল্ডার ছিলেন না। বেঁচে যান রয়। এই বল থেকে যায় এক রান। শেষ বল খেলেন গম্ভীর। হাফভলি লেংথের বলে জোরের উপর কাভার ড্রাইভ করেন। পোল্যার্ড ডাইভ দিয়ে একের বিনিময়ে নির্ঘাত চার বাঁচান। ফিজ সব মিলিয়ে চার রান খরচ করে যান।

ইনিংসের ষষ্ট আর নিজের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলে সাফল্য পান ফিজ। হার্দিক আর বুমরাহ শুরুর স্পেলে যা করতে পারেননি, মোস্তাফিজ এই ওভারে সেই কাজটি করেন। স্ট্রাইকে ছিলেন গম্ভীর। হার্দিক-বুমরাহ লেগসাইডে ফিল্ডার রেখে গম্ভীরকে টানা বডিলাইনে বল করলেও ফেরাতে ব্যর্থ হন। ফিজ এসেই ‘পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করেন। শুরু থেকে লেগসাইডে ভুগতে থাকা গম্ভীরকে ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বোকা বানান। গম্ভীর শর্টবল বিবেচনা করে পুল করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে হালকা বাউন্স করে। গতিও ছিল বেশ। দিল্লি অধিনায়ক ধরা পড়ে যান মিডউইকেটে রোহিতের হাতে। ১৬ বলে ১৫ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

দ্বিতীয় বল থেকে জ্যাসন রয় এক নেন। পরের বলে রিশভ পান্টও নেন এক। চতুর্থ বল ডট। ভেতরে ঢোকা পরের ডেলিভারি কাভারে ঠেলে এক নেন রয়। শেষ বলটিও একই রকম। গতি ছিল ঘণ্টায় ১৩২ কিলোমিটার। পরাস্ত রিশভ কোনো রানই নিতে পারেননি। এই ওভারে মোস্তাফিজ এক উইকেট নিয়ে তিন রান খরচ করে যান।

ফিজ যখন নিজের দ্বিতীয় স্পেলে বলে আসেন, তখন ম্যাচের বাকি তিন ওভার। ১৮ বলে ২৪ দরকার দিল্লির।

স্ট্রাইকে শ্রেয়াশ। প্রথম বলে এক রান নেন তিনি। দ্বিতীয় বলটি অফস্ট্যাম্পে সরে স্কুপ করতে চেয়েছিলেন রয়। ফিজ আগে থেকে বুঝতে পেরে টেনে ডেলিভারি দেন। পায়ে লাগলেও ওভার ‘থ্র’ থেকে রান বেরিয়ে যায়। পরের বল দেখার মতো কাটার, ডট। চতুর্থ বল কাভারে মেরে দুইবারের জন্য জায়গা বদল করেন দুই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় বলটির কার্বনকপি পঞ্চম ডেলিভারি। ডট। শেষ বলটি শর্টপিচ পড়ে যায়। পুল করে চার আদায় করেন শ্রেয়াশ। ফিজ এই ওভার থেকে খরচ করেন আট রান। তিন ওভারে দেন মোট ১৫ দেন।

শেষ দুই ওভারে জয়ের জন্য দিল্লির দরকার ছিল ১৬। ১৯তম ওভারে আক্রমণে আসেন বুমরাহ। এই ওভার থেকে পাঁচ রান যায়। শেষ ওভারে দিল্লির দরকার পড়ে ১১।

ইনিংস এবং নিজের শেষ ওভার করতে আসেন মোস্তাফিজ। স্ট্রাইকে ডানহাতি জ্যাসন রয়। কাভার ড্রাইভ। চার…! কাটার মারতে চেয়েছিলেন। হয়নি। পরের বলে ফাইনলেগের উপর দিয়ে ছয়…! পরের তিন বল ডট…! এক বলে দরকার এক রান। প্রায় সব ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে। সেট ব্যাটসম্যান রয় ভুল করেননি। অফস্ট্যাম্পে স্লো ডেলিভারি। এক্সট্রা কাভারে কেউ নেই। মাথা ঠাণ্ডা রেখে বড় শট খেলে কাভারে পাঠিয়ে দেন। ফিল্ডার থাকলে ক্যাচ হতে পারতো। সেটি যখন নেই, তখন অনায়াস এক রান নিয়ে নেন জ্যাসন এবং শ্রেয়াশ!!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here