৬৭৯ ভরি স্বর্ন ও ২২ লাখ টাকা চুরির পর ঠান্ডা মাথায় পালান তারা, এক্সক্লুসিভ সেই (ভিডিওসহ)

0
96

গত ১৪ এপ্রিল রাতে গুলশান-২ এর ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সের শো-রুমের ছাদ কেটে প্রায় ৬৭৯ ভরি ও টাকা ছিল ২২ লাখ চুরির ঘটনা ঘটে। গুলশানের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় থেকে চুরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। অবশেষে মাওয়া, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ থেকে স্বর্ণসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় উদ্ধার হয়েছে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

স্বর্ণ চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন আমিন জুয়েলার্সের নিরাপত্তা কর্মী মো. আব্দুস সোবহান মোল্লা। গ্রেফতার করা হয় তার স্ত্রী আলেয়া বেগম (৫৫), মেয়ে সীমা (২৭) ও মেয়ের জামাই হাফেজ মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে বুলবুলকে (৪০)।

তাদের গ্রেফতারের পর সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। জাগো নিউজের হাতে আসে সেদিনের ঘটনার সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ।

২টি সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার দিন রাতে সোবহানকে ডিসিসি মার্কেটের আশপাশে ঘুরাঘুরি করতে দেখা যায়। সঙ্গে ছিলেন মার্কেটের রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম। এরপর ভোরের দিকে সোবহানকে দুই হাতে দুই ব্যাগ নিয়ে এবং সাদ্দাম বাম হাতে একটি তেলের জার, আরেক হাতে পানির জার, একটি ব্যাগ এবং কাধে একটি ব্যাগ দেখা যায়।

পুলিশ বলছে, কেউ যাতে তাদের সন্দেহ না করতে পারে তাই পরিকল্পিতভাবে তারা হাতে তেল ও পানির জার নিয়েছিল। এরপর গুলশান-২ নম্বর চত্বরের কাছাকাছি এসে ওই নিরাপত্তাকর্মী সোবহানকে একটি সিএনজিতে তুলে দিয়ে পায়ে হেটে একটি ব্যাগ নিয়ে চলে যায়। পরদিন অবশ্য সোবহান শোরুমে আসে।

পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘গত ১৪ তারিখ রাতে গুলশান-২ এর ডিসিসি মার্কেটে আমিন জুয়েলার্সের শো-রুমের ছাদ কেটে শো-রুমের নিরাপত্তা কর্মী ও মার্কেটের রাজমিস্ত্রি সাদ্দাম পরিকল্পিতভাবে ভেতরে ঢুকে স্বর্ণ ও টাকা চুরি করে। চুরির পর তারা ছাদের কাটা অংশে ঢালাই দিয়ে বন্ধ করে তার ওপর একটি ড্রাম রেখে ঢেকে পালিয়ে যায়। ছাদের নতুন ঢালাই দেখে সন্দেহ হলে নিরাপত্তা কর্মী সোবহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য গরমিল করলে তার ওপর সন্দেহ তীব্র হয়। এক পর্যায়ে সোবহানের শরীরে বিভিন্ন স্থানে কাটা ছেড়া দেখে এর কারণ জানতে চায় পুলিশ। এর কোনো সন্তোষজনক উত্তর না দেয়ায় তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সে চুরির ঘটনা স্বীকার করে।

পরবর্তী সময়ে সোবহানের দেয়া তথ্যর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৯৮ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লাখ ২৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযুক্ত সাদ্দাম এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে খুঁজছে পুলিশ।

চুরির ঘটনায় ১৭ এপ্রিল গুলশান থানায় একটি মামলা করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here